গঙ্গা চুক্তির পর ফারাক্কায় এবার সর্বনিম্ন পানি প্রবাহ: সাড়ে চারশ অবকাঠামো দিয়ে পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে

0
180

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার প্রবাহ ভয়াবহ উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। শুকনো মওসুমের শুরু থেকেই বাংলাদেশ অনেক কম পানি পাচ্ছে। এতে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ গোটা দেশের কৃষি, আর্থ-সামাজিক-জীব বৈচিত্র, পরিবেশের উপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
১৯৯৬ সালে সম্পাদিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনের পর কোন সময়ই বাংলাদেশ এত কম হারে পানি পায়নি। গত ১ থেকে ১০ জানুয়ারি দশ দিকে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ আরো কমে যায়। জানুয়ারির শেষ দশ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৩২ হাজার ৫১৬ কিউসেক। জানুয়ারি শেষ দশ দিনে বাংলাদেশ পানি পেয়েছে মাত্র ২৮ হাজার ১১২ কিউসেক। যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির গড় প্রাপ্যতা ছিল ৬৭ হাজার কিউসেক। গত বছর জানুয়ারিতেও পানি পাওয়া গেছে ৫৯ থেকে ৫১ হাজার কিউসেক। যৌথ নদী কমিশন থেকে ভারতীয় প্রতিপক্ষের কাছে পানির প্রবাহ এমনি ভয়াবহ উদ্বেগজনকভাবে কমে যাওয়ার কথা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বরাবর গত সপ্তাহে নোট ভারবাল পাঠিয়েছে। পানির প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ যে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব নয়াদিল্লীতে তার ভারতীয় প্রতিপক্ষের সাথে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়ই হচ্ছে তিস্তা ও গঙ্গার পানি সমস্যা।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, ভারত বাংলাদেশকে আশ্বাস দিলেও ফারাক্কা পয়েন্টে দ্রুত পানির প্রবাহ বাড়ানোর নিশ্চয়তা দেয়নি। উজানে সাড়ে চারশ সেচ, পানি প্রতাহারের প্রকল্প রয়েছে। এসব অবকাঠামো দিয়ে উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ     বিহারে গঙ্গার পানি টেনে নেয়া হচ্ছে। অনেকগুলো প্রকল্প থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। জলবিদ্যুৎতে ব্যবহৃত গঙ্গায় ফিরে আসার কথা। কিন্তু এসব প্রকল্পের পানিও সেচ প্রকল্পের নেয়া হয়। এর ফলে গঙ্গার প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ভারত নেপালের সপ্তকুশীতে বিশালাকৃতির জলাধার নির্মাণ এবং সেখান থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নিয়েছে নেপালের সহযোগিতায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫৭ হাজার কিউসেক পানি গঙ্গায় পড়বে। তাতে শুকনো মওসুমে পানির প্রবাহ সঙ্কট থাকবে না বলেই ভারত বরাবর বলে আসছে। নেপালের সাথে সম্পর্কে লক্ষনীয় অবনতি হওয়ায় এই প্রকল্পের ভবিষৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। শুকনো মওসুমে গঙ্গার প্রবাহ বৃদ্ধির আশাও আশ্বাসেই থেকে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here