দুই রাজাকারের মৃত্যুদন্ড

0
238

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণের মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে নেত্রকোণার রাজাকার মো. ওবায়দুল হক ওরফে আবু তাহের ও আতাউর রহমান ননীকে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী। রায়ে বলা হয়, আসামি তাহের ও ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে চারটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় ও পঞ্চম অভিযোগে হত্যা, ধর্ষণ, আটকে রেখে নির্যাতনের দায়ে দুজনের সর্বোচ্চ সাজার আদেশ এসেছে। ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে অথবা মৃত্যু পর্যন্ত গুলি চালিয়ে তাদের দ- কার্যকর করতে বলেছে আদালত।
প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে হত্যা, নির্যাতন, লুট-পাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আমৃত্যু কারাদ-ের আদেশ দিয়েছে। চতুর্থ অভিযোগে হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা এবং ষষ্ঠ অভিযোগে গণহত্যা
ঘটনায় দুই     আসামির সংশ্লিষ্টতা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় তাদের খালাস দিয়েছে আদালত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাহের ছিলেন নেজামী ইসলামী পার্টির স্থানীয় নেতা। চার দশক পরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি।
তাহের ও ননী একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে গঠিত রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। সে সময় নেত্রকোণা জেলা সদর ও বারহাট্টা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা মানবতাবিরোধী কর্মকা-ের জন্য তারা ‘কুখ্যাত রাজাকার’ হিসেবে পরিচিতি পান বলে এ মামলার বিচারে উঠে এসেছে। এ পর্যন্ত রায় আসা ২২টি মামলার ২৬ আসামির মধ্যে তাহের ও ননীকে নিয়ে মোট ১৮ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হল।
রায়ের জন্য দুই যুদ্ধাপরাধীকে সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। সাড়ে ১০টার পর তাদের কাঠগড়ায় তুলে পড়ে শোনানো হয় ২৬৮ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত সার। পরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাজা ঘোষণা করেন।
নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাবেন তাহের ও ননী।
একজন নেজামী ইসলামী থেকে বিএনপিতে, আরেকজন ফুটবলার
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল হক তাহের নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলার ভোগাপাড়ার শুনই এলাকার মঞ্জুরুল হকের ছেলে। তার জন্ম ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি। বিকম ডিগ্রি পাওয়ার পর তাহের নেজামী ইসলামী পার্টির রাজনীতিতে যোগ দেন। এ দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রাম শুরু হলে তিনি তার বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় গঠিত রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে নেত্রকোণা সদরের কমান্ডারের দায়িত্ব পান।
আরেক যুদ্ধাপরাধী আতাউর রহমান ননী একই জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কচন্দরা এলাকার মৃত আহছান আলী ওরফে আছান আলী ওরফে হাছেন আলীর ছেলে। এসএসসির সনদে ননীর জন্ম তারিখ ১৯৫৬ সালের ৭ জুলাই উল্লেখ করা হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে লেখা হয়েছে ৮ অগাস্ট ১৯৫৮। পৌর শহরের সাবেক এই ফুটবলারও একাত্তরে তাহেরের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে অংশ নেন বলে এ মামলার বিচারে উঠে এসেছে।
২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে নেত্রকোনা পৌর শহরের তেরী বাজারে ব্যবসা করতেন তাহের। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে প্রসিকিউশনের তদন্ত দলের তথ্য। পৌর শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ননীও গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ব্যবসা করতেন। একাত্তরে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি নানা মানবতাবিরোধী অপরাধে অংশ নেন বলে এ মামলার অভিযোগপত্রের তথ্য।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here