নিজাম হাজারীর জামিন ও মুক্তি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য : নথি তলব করেছে হাইকোর্ট

0
147

নিজস্ব প্রতিবেদক : অস্ত্র মামলার বিচারিক আদালতের সাজার পর ফেনী সদরের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর জামিন ও মুক্তি নিয়ে ‘পরস্পরবিরোধী’ তথ্য পাওয়ায় নথি তলব করেছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে ৩১ অগাস্টের মধ্যে দুটি আপিলের নথি হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে দিতে হবে। ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত হোসেন ভুঁইয়া একটি রিটের শুনানিতে এই আদেশ আসে। এর আগে ৮ জুন এ বিষয়ে রুল দিয়েছিল হাই কোর্ট। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। নিজাম হাজারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন। আদালতে বাদীপক্ষের দেয়া তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট একটি অস্ত্র মামলায় দুটি ধারায় ১০ বছর ও সাত বছরের কারাদ- হয় নিজাম হাজারীর। সব মিলিয়ে তার ১০ বছর সাজা খাটার কথা। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলে ২০০১ সালের ২ মে হাই কোর্ট তা খারিজ করে দেয়। ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল আপিল বিভাগেও তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদনও না-মঞ্জুর হয়।
অন্যদিকে উপ-কারা মহাপরিদর্শক ও চট্টগ্রামের জেল সুপারের দেয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালের ২৭ মে হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি এসকে সিনহা ও বিচারপতি জোবায়ের আহমেদ চৌধুরীর দেয়া জামিনে একই বছরের ১ জুন মুক্তি পান নিজাম হাজারী।
চাকু পাওয়া যাওয়ার একটি মামলায় দেয়া শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে ওই জামিন দেয়া হয় বলে আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম কারাগারের একটি রেকর্ডের অনুলিপি যুক্ত করে দৈনিক প্রথম আলোর দাখিল করা একটি হলফনামায় দেখায় যায়, সাজা খাটার পর ২০০৫ সালের ১ ডিসেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান নিজাম হাজারী।
মনজিল মোরসেদ বলেন, “এ সব তথ্য একটি আরেকটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যার সবগুলো একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনি চাকু পাওয়ার মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু তার কাছেতো রাইফেল পাওয়া গিয়েছিল।
“হয়তো ভিন্ন একটি আপিল বাস্তবিক অর্থেই তারা দায়ের করেছিল, যেখানে অপরাধ হিসাবে রাইফেলের পরিবর্তে চাকু পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত তা দেখে জামিন দেয়। অথবা জামিনের আদেশটিই ভুয়া।”
সেক্ষেত্রে ‘সাজা খাটার পর মুক্তি পেয়েছেন’ বলে যে তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে- তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মনজিল মোরসেদ। এসব প্রশ্নের জবাব পেতেই আদালত সুপ্রিম কোর্টে করা দুটি আপিলের নথি তলব করেছে, যা আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে দিতে হবে। সাজা খাটার পর মুক্তি পাওয়ার নথিটি সম্পর্কে জেল কর্তৃপক্ষকে একই সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদালত।
উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যাকা- নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই গত ৮জুন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট।
ফেনী সদর থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হওয়া নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, রায়ের আগে পরে মিলিয়ে ১০ বছর পূরণ হওয়ার আগেই ২০০৫ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সে তথ্য তিনি নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় গোপন করেন।
এই অভিযোগে রিট হলে রুল দিয়ে নিজাম হাজারীর সাজা খাটা বিষয়ক নথিপত্র তলব করে আদালত। যেই তথ্য আদালতে আসার পর আবার নতুন অসঙ্গতি ধরা পড়ল।
ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন হাজারীর দাবি, নিজাম হাজারীর তথ্য গোপনের কথা ফাঁস করায় খুন করা হয় ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে।
ফুলগাজীর আওয়ামী লীগকর্মীরা একরাম হত্যাকা-ের জন্য নিজাম হাজারীকে দায়ী করে এলেও তিনি এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here