বাতাসে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ

0
2596

খুলনা প্রতিনিধি : চারি দিকে বাতাসে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। আম গাছের সবুজ পত্র বল্পব ছেয়ে গেছে সোনালি হলুদ রঙের মুকুলে। পুষ্ফুটিত মুকুলের মিষ্টি ম ম গন্ধ আর স্বর্ণ উজ্জ্বল সৌন্দর্য মন কাড়ছে পথিকের। বিহমিত হচ্ছে মৌমাছি। গুণ গুণে গান গেয়ে মধু সংগ্রহের মাঝে ফুলের পরাগায়ন ঘঠাছে মৌমাছি। চলতি মৌসুমে খুলনার পাইকগাছাসহ পাশ্ববর্তী উপজেলাতে আম গাছে সময় মত মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর মুকুলও হয়েছে প্রচুর। মুকুল পুষ্ফুটিত হয়ে কিছু কিছু গাছে মটর দানার ন্যয় গুটি ধরেছে। ইতোমধ্যে আম চাষীরা গাছের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিচর্যা শেষ করেছে। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের মুকুলের পরিচর্যার কাজ চলছে। ভালো ফলন পেতে বাগান মালিক ও আম চাষীরা আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে আম চাষী ও বাগান মালিকরা। পাইকগাছা বড় আম বাগানের মালিক বিরাশির অখিলবন্ধু ঘোষ, সনাতন কাঠির আমিন সরদার, মোমিন সরদার, গদাইপুরের সামাদ ঢালী, গোপালপুরের নজরুল ইসলাম, আবুল হোসেন জানান তাদের ক্ষেতে রূপালী, বোম্বাই লতা ও হিম সাগর জাতের গাছের সংখ্যা বেশি। গোপালপুরের রাজু অধিকারী জানান, গত দু’দিনের বৃষ্টি আমের মুকুলের জন্য ভাল হয়েছে। উপজেলার প্রায় শতাধিক আম বাগান পরিচর্যাকারীরা সারাদিন আমের মুকুলে স্প্রে করে ওষুধ ছিটাচ্ছে। এরমধ্যে বিরাশী গ্রামের আবুল হোসেন মোড়ল, নাসিমা বেগম জানান, প্রতিদিন তারা ছোট বড় প্রায় শতাধিক গাছে ওষুধ স্প্রে করে আম বাগান পরিচর্যা করছেন। ২বার ওষুধ দেওয়া হয়েছে এরপর তার আরো ২বার ওষুধ প্রয়োগ করবে বলে জানায়। পাইকগাছা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন হরিঢালী, কপিলমুুনি, গদাইপুর, রাড়–লী ও পৌরসভা ছাড়া বাকী ইউনিয়ন গুলিতে সীমিত আমের গাছ রয়েছে। উপজেলায় ৫৮৫ হেক্টর জমিতে মোট আম গাছের সংখ্যা ১৪ হাজার ১’শ ৮০টি। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আম গাছ রয়েছে। আম বাগান থেকে ২২ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন আমের ফলন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, আম চাষী ও বাগান মালিকদের আমগাছ পরিচর্যায় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে আমের ভালো ফলন হবে বলে তিনি আশা করেন।

Share on Facebook