‘জঙ্গি’ সবুর রিমান্ডে

0
115

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা এবং আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল হত্যাচেষ্টার ‘অন্যতম হোতা’ আবদুস সবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ। ব্লগার, প্রগতিশীল লেখক ও প্রকাশক হত্যায় জড়িত যে ছয়জনকে চিহ্নিত করে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে সবুরও একজন। তার নামে পুরস্কারের অংক ছিল ২ লাখ টাকা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম রোববার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন থেকে সবুরকে গ্রেপ্তার করে। মনিরুল বলছেন, ২৩ বছর বয়সী সবুর আনাসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। বিভিন্ন সময়ে তিনি সামাদ, সুজন, রাজু ও সাদ নামও ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে, টুটুল হত্যাচেষ্টায় জড়িত আনাসারুল্লাহ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ঘটনাস্থল রেকি করা এবং হামলা পরিকল্পনা তৈরি করা ছাড়াও ওই ঘটনার সার্বিক দায়িত্বশীল একজন ছিল সে।”সবুর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ে আনাসারুল্লাহ বাংলা টিমের একটি বোমা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে বাড্ডার সাঁতারকুলে ওই সংগঠনের নতুন এক আস্তানায় নিজেও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন বলে জানান মনিরুল। গতবছর অক্টোবরের ৩১ তারিখ বিকালে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেদিনই লালমাটিয়ায় আরেক প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে এর কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ওই দুই প্রকাশনা থেকেই বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশিত হয়েছে, যিনি গতবছর ফেব্রুয়ারিতে জঙ্গি কায়দার হামলায় নিহত হন। লেখক, প্রকাশক হত্যায় জড়িত ছয়জনকে চিহ্নিত করে তাদের ধরিয়ে দিতে গত মে মাসে ১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সালমান ওরফে সাদের বাড়ি কুমিল্লা অঞ্চলে। তিনি ধর্মীয় জিহাদের বয়ান দিয়ে থাকেন বলে পুলিশের হাতে প্রমাণও রয়েছে। ওই তালিকায় নাম মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাতকেও গত ২৪ অগাস্ট টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে দীপন হত্যার দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এছাড়া টুটুল হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সুমন হোসেন পাটোয়ারি নামে আরেকজনকে গত ১৫ জুন ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও আদালতে স্বীকােেরাক্তি দিয়েছেন।
‘জঙ্গি’ সবুর রিমান্ডে : ঢাকার ৪ নম্বর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম রোববার গ্রেফতারকৃত জঙ্গি সবুরকে রিমান্ডে দেয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ বলছে, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার ঢালুয়া ইউনিয়নের ইদ্রিস পাটোয়ারির ছেলে সবুর ওরফে সামাদ, ওরফে সুজন, ওরফে রাজু ওরফে সাদ টুটুল হত্যাচেষ্টায় জড়িত আনাসারুল্লাহ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ঘটনাস্থল রেকি করা এবং হামলা পরিকল্পনা তৈরি করা ছাড়াও ওই ঘটনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন। সবুরকে প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকা-েরও ‘অন্যতম’ হোতা বলা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শনিবার সকালে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন থেকে সবুরকে গ্রেপ্তার করে বলে রোববার পুলিশের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
পরে তাকে আদালতে হাজির করে প্রকাশনা সংস্থা ‘শুদ্ধস্বরের’ কর্ণধার টুটুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. বাহাউদ্দিন।
শুনানি শেষে হাকিম ছয় দিনের হেফাজতে নিয়ে সবুরকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই নিজামউদ্দিন ফকির জানান।
আদালতে সবুরের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না এবং জামিন আবেদনও হয়নি বলে জানান তিনি
গতবছর ৩১ অক্টোবর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে টুটুল এবং তার সঙ্গে থাকা ব্লগার তারেক রহিম ও রণদীপম বসুকে কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা।
একই দিনে হামলা হয় জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে। লালমাটিয়ার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শাহবাগে জাগৃতির কার্যালয়ে এর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপনের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।
এ দুটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে লেখক অভিজিৎ রায়ের কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে, যিনি নিজেও গতবছর ফেব্রুয়ারিতে একইভাবে খুন হন।
হামলার একদিন পর মোহাম্মদপুর থানায় টুটুলকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে তার পরিবার। সে সময় থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে ঘিরে।
লেখক, প্রকাশক হত্যায় জড়িত ছয়জনকে চিহ্নিত করে তাদের ধরিয়ে দিতে গত মে মাসে ১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ, যাদের মধ্যে সবুরও একজন। তার নামে পুরস্কারের অংক ছিল ২ লাখ টাকা।
এর আগে সুমন হোসেন পাটোয়ারি নামে আরেকজনকে গত ১৫ জুন ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে টুটুল হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here