0
301

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বন্দরনগরীর খুচরা বাজারগুলোতে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। ঈদের পর পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, কাঁচামরিচসহ কয়েকটি পণ্য ছাড়া প্রায় প্রতিটি সবজিরই দাম চার-পাঁচ টাকা করে কমেছে।
সবজি বাজারের মতো স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে মাছের বাজারেও। মাছ বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর ইলিশের মূল্য আকারভেদে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
এদিকে, ঈদের পর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজি প্রতি পাঁচ-দশ টাকা করে বেড়েছে। তবে, গরু ও খাসির মাংসের দাম অনেকটাই অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
শুক্রবার সকালে নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পটল প্রতি কেজি ৩০ টাকা, কাকরোল ৪৫ টাকা, ঢেড়শ ৪০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ওলকচু ৬০, ঝিঙা ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, শসা ২৫, গাজর ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, বাজারে আসা নতুন সিম প্রতিকেজি ৮০, ফুলকপি ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
নন্দনকানন এলাকা থেকে আসা রেয়াজুদ্দিন বাজারের ক্রেতা  আলম বলেন, কয়েকটি সবজির দাম কমেছে ঠিক অনেকগুলোতে আবার বাড়তিও। রোজায় পর্যন্ত গাজর কিনেছি ৩০-৪০ টাকা, এখন নিচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।
রেয়াজুদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা জানান, ফুলকপি অধিকাংশই আসে যশোর থেকে। কিন্তু ঈদের পর তেমন একটা সরবরাহ হয়নি যার কারণে দাম একটু বেশী। এছাড়া, কাঁচা মরিচের সরবরাহও কম।
তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে পচনের আশঙ্কায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। কয়েকটি বাদ দিলে অধিকাংশ সবজিরই দাম এখন চার-পাঁচ টাকা কম।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১২০-১৫০ টাকা, রুই ২২০ খেকে ২৫০, কাতাল ২৪০, রূপচাঁদা ৭০০-৭৫০, ইলিশ ৬৫০-৭০০ এবং চিংড়ি আকার ও প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
রেয়াজুদ্দিন বাজারের মাছ বিক্রেতা জানান, ঈদের সময় ও রোজায় প্রতি কেজি ইলিশ ৮৫০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরু ৩৮০, মহিষ ৩৫০ এবং ছাগল ৪৫০ টাকা করে বিক্রয় করা হচ্ছে। মাংস বিক্রেতা জানান, মাংসের দরদামে কোন পরিবর্তন হয়নি।
রেয়াজুদ্দিন বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. নুর আলম জানান, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা, দেশী মুরগী ৩২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোজা ও ঈদের সময় ব্রয়লার মুরগীর দাম কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা করে কম ছিল। দাম বাড়ায় ব্রয়লার মুরগীর ক্রেতা কমে গেছে।
একই বাজারের শুটকি বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, চিংড়ি শুটকির মূল্য কেজি প্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য শুটকির বিক্রয়মূল্য অনেকটাই অপরিবর্তিত।
তিনি জানান, প্রতি কেজি চিংড়ি শুটকি এক হাজার থেকে ১২ শ’, চুরি শুটকি পাকিস্তানি ৫০০, রাবেইল্যা ১২০০, সোনাদিয়ার ৯০০, লইট্রা ৪৫০-৪৮০, কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মধ্যে মসুর ডাল, শুকনো মরিচসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়লেও অধিকাংশই অপরিবর্তিত।
রেয়াজুদ্দিন বাজারের নবী স্টোরের আহমদ নবী জানান, প্রতি কেজি মসুর দেশী ১০৫, ভারতীয় ৮০, খেসারী ৩৬, ?হলুদ দেশী ১১৫, ভারতীয় ১০৫, মরিচ প্রকার ভেদে ১২০ থেকে ১৬০, ছোলা ৪৮, আদা ১৩০, পিয়াজ ৩০ থেকে ৪৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here