গঙ্গাচড়ায় হতদরিদ্ররা ১০ টাকা কেজির চাল ২ মাস পেলনা

0
119

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হতদরিদ্ররা ১০ টাকা  কেজির চাল গত ২ মাসেও পেল না। বঞ্চিত হলো সরকারি এ সুবিধা থেকে তারা। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছে সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় রেশন কার্ডের ১৭২২৮ টি বরাদ্দ পায়। উপজেলা খাদ্য কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত বরাদ্দকৃত কার্ড ইউনিয়ন প্রতি গঙ্গাচড়া ২৪৯০, লক্ষীটারী ১৩৫৫, গজঘন্টা ২১১১, মর্নেয়া ১৭০০, আলমবিদিতর ২১৬৪, বেতগাড়ী ১৫৬২, কোলকোন্দ ১৭৬৫, বড়বিল ২৫৪১, ও নোহালী ইউনিয়নে ১৫৪০ টি বন্টন করে দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এ বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই ৩ মাস কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল পাবে তালিকা ভুক্ত হতদরিদ্ররা। সে অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যানগনের নিকট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের আগেই দরিদ্রদের তালিকা তৈরী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা জমা করেননি চেয়ারম্যানগন। তালিকা সঠিক সময়ে জমা না হওয়ার কারণে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে সেপ্টেম্বর ও গজঘন্টা,নোহালী ইউনিয়নে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ১০ টাকা কেজির চাল পাননি দরিদ্ররা। কার্ডের তালিকা দেরীতে জমা দেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যানগন জানান, আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীগন কার্ডের তালিকা তৈরী অংশ চাওয়ায় মত পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। পরে তাদের সাথে সমঝোতায় বিলম্ভ হওয়ায় তালিকা জমা দিতে দেরী হয়। বঞ্চিত দরিদ্ররা জানান, দলীয় নেতাকর্মীগন তাদের নাম না দিয়ে তালিকায় দলের লোকজনের নাম অর্ন্তভুক্ত করেন। এছাড়া উপজেলা খাদ্য কমিটি কর্তৃক তালিকা যাচাই কালে স্বচ্ছল ব্যক্তিদর নাম অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় বেতগাড়ী ২৭, কোলকোন্দ ৩২, বড়বিল ২৮, গঙ্গাচড়া ৭২, লক্ষীটারী ৭, গজঘন্টা ৩১, মর্নেয়া ১৬ ও আলমবিদিতর ইউনিয়নে ৬৪ টি কার্ড ধারীর নাম বাতিল করে প্রকৃত দরিদ্রদের নাম চাওয়া হয়। বাতিলকৃত কার্ডে তালিকা নির্দিষ্ট সময়ে জমা না দেওয়ায় ওই সমস্ত কার্ডে পূনরায় নুতন করে অর্ন্তভূক্ত হওয়া দরিদ্ররাও গত ২ মাসের চাল পায়নি। নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুল বলেন, তার ইউনিয়নের ইউপি সদস্যগন তালিকায় অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম অর্ন্তভূক্ত করে। তিনি পুনরায় সে সব নাম বাদ দিয়ে তালিকা তৈরীতে দেরী হয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আব্দুস ছালাম জানান, বার বার তাগাদা দিলেও তালিকা জমা দেয়নি চেয়ারম্যানগন। দেরিতে তালিকা জমা দেওয়ায় ২ মাসের চাল পাবেনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের সঠিক সময়ে তালিকা জমা দেওয়ার জন্য বলা হলেও দেরীতে জমা দেয়। এছাড়া নোহালী ইউপি চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here