ভূগর্ভে ফাটলে বড় বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ দুজনের মৃত্যু

0
119

নিজস্ব প্রতিবেদক : যে কোনো সময় বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের কবলে পড়তে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারত-মিয়ানমারের সংযোগ স্থলের ভূ-গর্ভে বিশাল ফাটলের সন্ধান পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে বাংলাদেশসহ এর আশপাশের এলাকায় ঘটতে পারে ৮-৯ মাত্রার ভূমিকম্প।  কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ড. মাইকেল স্টেকলারের এক গবেষণা থেকে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই ফাটলের ৬০ মাইলের মধ্যে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। আর এই ভূমিকম্পের প্রভাবে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।  বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ফাটলটি গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রের পলি মাটি দ্বারা ভরাট হয়ে আছে। প্রায় কয়েক মিলিয়ন টন পলি জমা হয়েছে। ড. মাইকেল স্টেকলার সিএনএন-কে জানান, তিনি আশঙ্কা করছেন, এই ফল্ট লাইনটি এখনো সচল। এর আগে এমন বড় ফাটল থেকে ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে বিপর্যয় হয়। এরপর ২০১১ সালে জাপানেও একই রকম বিপর্যয় দেখা দেয়।  দুইবারই বিশাল সুনামির উৎপত্তি হয়েছিল সেখান থেকে। এমনকি এই ফাটল থেকে যে ভূমিকম্প হবে তাতেও সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কবে এমনটি হতে পারে  এ ব্যাপারে কিছুই জানাননি বিশেষজ্ঞরা।
তারা জানান,  যে কোনো সময়ই ঘটতে পারে এমন দুর্ঘটনা। তবে যখনই হোক না কেন, এটা বাংলাদেশের জন্য হয়তো বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হবে। এ জন্য সরকারকে ভূমিকম্প সহনশীল স্ট্রাকচার তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যরাতে ফের ভূমিকম্প : বাংলাদেশে গত মঙ্গলবার বিকেলের পর মধ্যরাতে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।  রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ১।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মাওলাইক এলাকায়। উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৪২৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। মধ্যরাতের এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ৩টা ৯ মিনিটে ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে। এ ভূমিকম্পে আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সুনামগঞ্জে এক বৃদ্ধ ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভূমিকম্পে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে। ওই এলাকায় ভূমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিকেলের দিকে ঘটা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭৬ কিলোমিটার দূরে ভারতের ত্রিপুরায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৫।
দুজনের মৃত্যু, ভূমিতে ফাটল :  রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সুনামগঞ্জে এক বৃদ্ধ ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভূমিকম্পে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে। ওই এলাকায় ভূমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৫। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি ত্রিপুরার আমবাসা থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে,  ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৬.১ কিলোমিটার গভীরে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৭৬ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ছাতক উপজেলার শামসুল হকের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে সায়মা আক্তার (১৪) ও জগন্নাথপুর উপজেলার হিরণ মিয়ার (৬০) মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, সায়মা আক্তারের বাবা শামসুল হক ছাতক সিমেন্ট কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি কারখানার ভেতরে একটি চারতলা ভবনে পরিবার নিয়ে থাকেন। ভূমিকম্পের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে চারতলা থেকে দৌড়ে নিচে নামার সময় সিঁড়ি থেকে ছিটকে পড়ে যায় সায়মা। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সায়মা আক্তার ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ জানান, হিরণ মিয়া বাড়ি উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ভূমিকম্পের সময় ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার সময় বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে হিরণের মাথায় ধাক্কা লাগে। এ সময় তিনি মেঝেতে পড়ে যান। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ভূমিকম্পের সময় পাটলী মাদ্রাসার দোতলা থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে গুরুতর আহত হয় ওই মাদ্রাসার ছাত্র নাদিউর রহমান। তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here