বিএনপির প্রতিক্রিয়া ‍॥ ‘ক্ষমতা পোক্ত করতে ষোড়শ সংশোধন’

0
189

নিজস্ব প্রতিবেদক : একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেই বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার মন্ত্রিসভায় সংসদকে ক্ষমতা দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তোলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। ফখরুল বলেন, “সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সম্প্রচার নীতিমালা করেছে। সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের ফিরিয়ে দিতে গতকাল মন্ত্রিসভায় খসড়া আইন উঠছে। “এভাবেই তারা সুপরিকল্পিতভাবে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করতে চাচ্ছে।” সরকারের এই ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সোমবার ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪’ এর খসড়ায় ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। সংবিধান সংশোধনের এই অনুমোদনের ফলে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদ পেতে যাচ্ছে। ৫ জানুয়ারির ভোট বর্জনকারী দশম সংসদকে ‘অবৈধ’ বলে আসছে। এর আগে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে বেলা ১১টার দিকে সংগঠনের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুরসহ নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ফখরুল।
পরে প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও ছিলেন।
‘জঙ্গিবাদের ভাঙা রেকর্ড’ : চারদলীয় জোট সরকারের আমলে একযোগে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মদদ ছিল- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “সৈয়দ আশরাফ সাহেবের এই বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বার বার তারা জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে চলেছে।”
বিএনপিকে সম্পৃক্ত করতেই সরকার প্রধানসহ সিনিয়র মন্ত্রীরা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জঙ্গিবাদ আওয়ামী লীগের আমলেই শুরু হয়েছে দাবি করে ফখরুল বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাকে নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। জঙ্গিদের বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছিল। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। বেগম খালেদা জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। তিনি দীর্ঘ সময়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। বিএনপিতে মৌলবাদের কোনো স্থান নেই।”
“যারাই মৌলবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চেয়েছে, তাদের বেগম জিয়া গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাই যারা বিএনপিকে মৌলবাদের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এরকম অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৭ অগাস্টের একযোগে হামলার ‘মদদদাতা’ হিসাবে খালেদা জিয়াকে সরাসরি দায়ী করে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “তখন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, তিনি তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।”
বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। এ দলটি পরে নিষিদ্ধ হয়, ফাঁসি হয় শীর্ষ নেতাদের। এদিকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে দীর্ঘদিন থাকার পরও মির্জা ফখরুলকে ভারমুক্ত না করার বিষয়ে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের জবাবও দেন ফখরুল।
তিনি বলেন, “এটা সৈয়দ আশরাফ সাহেবের অনধিকার চর্চা। আমাদের দলের নিয়ম অনুযায়ী মহাসচিব নিয়োগের বিষয়টি দলের কাউন্সিলে নির্ধারণ হয়ে থাকে। এ নিয়ে আমাদের দলে কোনো সমস্যাও নেই।” খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালের এপ্রিলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয় ফখরুলকে। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

Share on Facebook