সাঁওতাল পল্লীতে আগুন পুলিশই দিয়েছে

0
108

ডিআইজির তদন্ত প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক:  চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের সময় সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার দুই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে দুটি প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাইবান্ধা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মাহবুবুর রহমান ও গাইবান্ধা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ হোসেন সেদিন সাঁওতালদের ঘরে অগ্নিসংযোগ করেন বলে পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক তার প্রতিবেদনে জানিয়েছেন । অন্য প্রতিবেদনটি দিয়েছেন পুলিশের অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির। দুই প্রতিবেদনেই বলা হয়, এসআই মাহবুব ও কনস্টেবল সাজ্জাদ ছাড়াও পুলিশ বা বাইরের লোকজন ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের প্রতিব্নে দুটি বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। পরে আদালত শুনানি করে প্রতিবেদন দুটি নথিভুক্ত করে।
গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমের তদন্তে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ সদস?্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ আসার পর এই বেঞ্চ গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার পুলিশ সুপারসহ সেদিন চামগাড়ি এলাকায় দায়িত্বরত সব পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আল জাজিরা টিভিতে আগুন লাগানোর যে ভিডিও সম্প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল, সেই ভিডিও পরীক্ষা করে দেখতে পুলিশ সদর দপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানিয়ে আদালত পুলিশের মহা পরিদর্শক ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। ওই আদেশেই রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের প্রতিবেদন দুটি আদালতে জমা পড়ে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here