আশুলিয়ায় সাংবাদিক অপহরনের অভিযোগে গ্রেফতার ১

0
74

আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি ঃ আশুলিয়ায় সাংবাদিক অপহরনের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গতকাল ভোর রাতে তাকে ডেন্ডাবর এলাকা থেকে আটক করা হয়।সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়,গত ২৮ মার্চ আশুলিয়া প্রেসক্লাবের দ্বি-বাষিক নির্বাচনের দিন  সকাল ছয়টার দিকে এলাকার প্রবীন সাংবাদিক ইদ্রিস আলী যাতে ভোট কেন্দ্র না যেতে পারে সেই জন্য বিবাহ রেজিষ্ট্রার কাজী মাহবুবুল হক একটি প্রাইভেট কার যোগে তাকে নিয়ে সাভার এনাম মেডিকেল এলাকায় নিয়ে  একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে।
ইদ্রিস আলী প্রেসক্লাবে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করলে তাকে বলে প্রেসক্লাবে গুলাগুলি হচ্ছে তোমার সেখানে যেতে হবেনা।এসময় জোর পুর্বক তার হাতে থাকা মোবাইল সেট নিয়ে যায়।পরে ভোট গ্রহন শেষ ও রেজাল্ট ঘোষনা দেওয়ার পর তাকে রাত দশটার দিকে মুক্ত করে ছেড়ে দেয়।সে অপহরণ হওয়ার কারনে তার ভোট প্রয়োগ করতে পারেনি।
যার কারনে গতকাল সকালে থানায় হাজির হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।(মামলা নং- ৪৮)তাং ৩০-০৩-১৭ইং অপহৃত ইদ্রিস আলী জানায় মাহবুবুল হক কাজী সভাপতি প্রার্থী মোজাফ্ফর হোসেন জয়ের পক্ষে আমার কাছে ভোট চায় আমি ভোট দিবোনা মনে করে আমাকে ভোটের দিন অপহরন করে আটকিয়ে রাখে।
অপহৃতের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করার জন্য প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দেওয়ান ইদ্রিস বাসায় প্রস্তুতি নিচ্ছিনেল। এসময় কাজী মাহাবুবুল আলম.ও প্রাইভেট কারের ড্রাইভার কামাল হোসেন তার কুরগাঁও ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে এবং তাকে ভোট প্রদানের কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
পরে আমাকে সহ সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে মোবাইল ফোনে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে পায়ের চিকিকৎসা করানোর কথা বলে বেলা ১১টার দিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায় একটি কক্ষে জোরপূর্বক বসিয়ে রাখে। এর পর রাত ১০টার দিকে আমাদের ছেড়ে দেয়।যাওয়ার সময় অপহরণকারী কাজী মাহাবুবুল আলম আমাকে হুমকি দিয়ে বলে যায় আজ যা হয়েছে তা জেন কেউ জানতে না পারে। জানলে আপনার বড় ধরণের ক্ষতি হবে।
পরে আমার স্ত্রী  স্বজনদের সাথে আলোচনা করে বুধবার রাতে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেই। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক রাসেল মোল্লা  রাতেই অপহরণকারী কাজী মাহাবুবুল আলমকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে আটক করে থানা হাজতে রাখে।  আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল মোল্লা বলেন, ওসির নির্দেশে বুধবার রাতে কাজী মাহাবুবুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এব্যাপারে ঢাকা জেলা সিনিয়র এ এস পি নাজমুল হাসান ফিরোজ বলেন, এই ঘটনাটি আমাকে একজন সাংবাদিক অবগত করেছিলো তাৎক্ষনিক আশুলিয়া থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেই। পরবর্তিতে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আমার জানা নেই। তবে বিস্তারিত জেনে আপনাকে জানাবো এবং ঘটনার সাথে জড়িত যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানাযায় কাজী মাহবুবুল হক শিমুলিয়া ইউনিয়ন জামাতের একজন সদস্য সে দীর্ঘ দিন থেকে বিবাহ রেজিষ্ট্রারের অন্তরালে নাশকতার রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে।গত ২৮ মার্চ প্রেসক্লাবে বিএনপি সমর্থিত একজন প্রার্থীর পক্ষে অসুস্থ প্রবীন এক সাংবাদিককে অপহরন করে তার ভোট হরন করার চেষ্টা করে।এব্যাপারে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মহসিনুল কাদির বলেন বাদীর লিখিত অভিযোগ ও জবান বন্দি শুনার পর আমি বিবাহ রেজিষ্ট্রারকে আটক করেছি।পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here