কাতারের সঙ্গে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ সম্পর্ক ছিন্ন করলো

0
168

নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাতারের কূটনীতিকদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে কাতার উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, এই অভিযোগে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য জঙ্গি দলগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয় বলে অভিযোগ করছে এই দেশগুলো। চারটি দেশই কাতারের নিকটতম প্রতিবেশী। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ বলছে, রিয়াদ কাতারের সঙ্গে নিজের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে, এবং জল, স্থল ও আকাশপথে দুই দেশের যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বিচ্ছিন্ন করেছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলছে, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করে নিজের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরব এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কাতারের সাথে আকাশসীমা এবং বন্দরসমূহ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটিতে নিযুক্ত কাতারের কূটনীতিকদের দেশত্যাগের ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছে। আর বাহরাইন অভিযোগ করছে, দেশটির নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছিল কাতার।
মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ কেন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলো : আঞ্চলিক রাজনীতিই এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নকারী দেশগুলোর অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় দোহা বলেছে, ভিত্তি নেই এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঐ সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে এবং এটি অন্যায্য একটি সিদ্ধান্ত। কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য জঙ্গি দলগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে কাতার উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, এই অভিযোগে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে গাল্ফ অঞ্চলের দেশগুলো, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তাদের সাথে কাতারের সম্পর্কচ্ছেদ হিসেবে।
এর সাথে গাল্ফভুক্ত দেশগুলোর সাথে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার একটি প্রভাব রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রক্রিয়া প্রথমে শুরু করে বাহরাইন। পরে সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন ভিন্নভাবে সম্পর্কচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। গাল্ফভুক্ত দেশগুলো তাদের দেশে অবস্থানরত কাতারের নাগরিকদের দেশ ত্যাগের জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেধে দিয়েছে।
কেন এই বিচ্ছেদ?
সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা হঠাৎ এলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের টানাপড়েনের শুরু কয়েক বছর আগে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে।দুই সপ্তাহ আগে গত ২৫শে মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আল জাজিরা নেটওয়ার্কসহ কাতারের সংবাদ বিষয়ক সকল ওয়েবসাইট বক করে দেয় এই চারটি দেশ। বিতর্কিত ঐ ঘটনায় দেখা যায়, কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে আমির সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন।ঐ প্রতিবেদনে আমিরকে উদ্ধৃত করে আরো বলা হয়, তিনি ইরানের প্রতি আরব দেশগুলোর বিরোধিতার সমালোচনা করছেন। দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব সফর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও পরে কাতার তখন দাবী করে পুরো ঘটনাটি ভুয়া। কারণ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা হ্যাক হয়েছিল এবং ঐ খবর সাইটটি হ্যাক হবার পর প্রকাশিত হয়েছিল বলেও দাবী করে কাতার। তবে, মূলত দুটি বিষয় কাজ করেছে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে। এক, জঙ্গি সংগঠনসমূহের সঙ্গে কাতারের সংযোগ, আর দুই আঞ্চলিক রাজনীতিতে সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ ইরানের ভূমিকা।আইএস গোষ্ঠীকে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে কাতার যোগ দিয়েছে ঠিকই।তবে, সেই সঙ্গে ইরাকের শিয়া নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন যে কাতার আইএসকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।যদিও এ অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে কাতার।আবার সিরিয়ার কট্টর ইসলামী গ্রুপগুলোকে অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। আল কায়েদা সংশিষ্ট নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে কাতারের সংযোগের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া সুন্নি প্রধান দেশ সৌদি আরব বরাবরই বাহরাইনের শিয়া জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে। দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদ সফরের সময় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here