বোরো সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার এক দশমাংশ অর্জিত হয়েছে

0
185

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধান, চাল সংগ্রহ অভিযানের দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে সংগৃহিত হয়েছে ১ লাখ দশ হাজার টন। অথচ গত বছর একই সময়ে সংগৃহিত হয়েছিল ৪ লাখ টনের বেশি। দশ লাখ টনের লক্ষ্যমাত্রা অজির্ত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান খাদ্য অধিদপ্তর।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, মিলাররা আগামী দুই মাসের মধ্যে চার লাখ টন চাল সরকারি গুদামে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মৌখিকভাবে বললেও তারা মন্ত্রণালয়ের সাথে লিখিত চুক্তি করছেন না। খাদ্যমন্ত্রীর অনুরোধে এবং তার ব্যাপক তৎপরতায় গতমাসে মিলাররা চল্লিশ হাজার মে.টন চাল দেয়ার চুক্তি করেন। তারপর নতুন করে আর কোন চুক্তি করেননি তারা। সরকারিভাবে নির্ধারিত মোটা চালের মূল্য কেজি প্রতি ৩৪ টাকা। সেই চালই খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে  ৪০-৪২ টাকায়। কোথাও অবশ্য ৪০-৪১ টাকা। মাঝারি মানের চালের দাম ৪৯ থেকে ৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৪২-৪৪ টাকা। ভরা মওসুমে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে নতুন বোরো চাল না উঠায় এবং বাজারে চালের দাম না কমায় সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। সরকার নির্ধারিত দাম বাজার মূল্য অপেক্ষা কম হওয়ায় কৃষক সরকারি দামে চাল বিক্রি করতে আগ্রহী নয়। বিদেশ থেকেও চাল আসা শুরু হয়েছে। খোলাবাজারে তারও কোন প্রভাব নেই।
ভিয়েতনাম থেকে দুই লাখ টন আতপ ও ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আনা হবে।২৪ হাজার টন চাল নিয়ে একটি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। ২৪শে জুলাই ৪৫ হাজার টন চাল নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। ভারত থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে প্রায় ৫ লাখ মে.টন চাল কেনার কথাবার্তা চলছে। ভারতীয় একটি প্রতিনিধি দল এ নিয়ে আলোচনার জন্য এখন ঢাকায়। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই চাল দেশে আনার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ভারত থেকে চাল আমদানীর জোর চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে এ খাতে ২৬ হাজার টন চাল এসেছে। আরো ২০ হাজার টন চাল এ মাসেই এসে পৌঁছাবে। বেসরকারি খাতে আগামী দু’মাসের মধ্যে কমপক্ষে চার লাখ টন চাল আসার আশা করছে সরকার। তবে দাম অনেক বেশি পড়ায় বেসরকারি খাতের আমদানীকারকরা এতে আগের মত উৎসাহ পাচ্ছেননা। কারণ দাম পড়ছে অনেক বেশি।
এ’দিকে সরকারের মজুদ ভান্ডারে খাদ্যশষ্য রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার টন। যেখানে ১০ লাখ টনের মজুদ গড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা সেখানে এই মজুদ অপর্যাপ্ত। এই অপর্যাপ্ত মজুদ নিয়ে সরকার ্ওএমএস, টেস্ট রিলিফ জি আর দশ টাকার চাল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। তবে আগামী মাস থেকে এসব কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here