‘কাস্টমসের কাজে অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা’

0
253

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : গতকাল থেকে কাস্টমসের কাজের জন্য  কোনো কর্মকর্তার  বাসায় যেতে হবে না। সব কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অফিসে থাকতে হবে। এ ধরনের অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।
শনিবার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের স্বার্থে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়ে সর্বস্তরের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার এ এন এম আবদুল্লাহ খান।
এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল খালেদ ইকবাল, ব্যবসায়ী নেতা ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অঞ্জন শেখর দাস অভিযোগ করেন, বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দরের ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরা এই সেবা পাই না, কর্মকর্তাদের অফিসে পাওয়া যায় না। ফাইল স্বাক্ষর করতে তাদের বাসায় যেতে হয়। ২৪ ঘণ্টা বন্দর ও কাস্টম হাউস কীভাবে খোলা রাখবেন। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস ও বন্দর খোলা রাখতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম চেম্বার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটের কারণে পুরো দেশ ইমেজ সংকটে পড়ে। জাহাজগুলো বন্দরের বহির্নোঙ্গরে এসে ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত পড়ে থাকে। তারপরও আমরা মাল ছাড়ের অনুমতি পাই না। আমাদের বর্তমান রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেক ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। আসলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির নাজুক অবস্থা আমরা ব্যবসায়ীরা জানি। এখন দেশ থেকে ইউরোপে কোনো শিপমেন্ট যাচ্ছে না। অন্য দেশগুলোও অর্ডার বাতিল করে দিচ্ছে বন্দরে জাহাজজটের কারণে। গত বছর বিগত পাঁচ বছরের  মধ্যে  সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এসব কথার জবাব দিতে গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, কাস্টমসের কোনো কাজের জন্য আজ থেকে আর কোনো কর্মকর্তার  বাসায় যেতে হবে না। সব বিভাগের সব কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অফিসে থাকতে হবে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে আপনারা ব্যবসায়ীরা এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য লুৎফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
এ ধরনের অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সব স্বপ্ন বাস্তায়ন হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক আশাবাদী। তিনি এ বন্দর নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর এ স্বপ্নও বাস্তবায়ন হবে। আমরা সবাই মিলে তা বাস্তবায়ন করব। ২৪ ঘণ্টা বন্দর ও কাস্টমসসহ এ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সচল করা হবে।
এ সময় ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউসের ওপর দেশের ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী নির্ভরশীল। অথচ বন্দর ও কাস্টমস নিয়ে কোনো মাস্টার প্ল্যান নেই। এ দুটো প্রতিষ্ঠান অবকাঠামোসহ সব ক্ষেত্রে এখনো ২০০৫ সালে পড়ে আছে।
বন্দরের ও কাস্টম হাউজের লোকবল আরো বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে ভাল আমদানিকারকদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা উচিত। তাহলে পণ্যের ছাড় ও শুল্কায়ন আরো সহজ হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা বন্দর খোলা রাখা ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়াকে স্বগত জানাই। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা এনবিআরকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
নৌ পরিবহন মন্ত্রানালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় বলেন, বন্দর নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। আমাদের ইকুইপমেন্ট সংকট আছে। তবে আগামী ২০১৮ ও ’১৯ সালের মধ্যে কোনো সংকট থাকবে না বরং সব ধরনের সামগ্রী  ১০ শতাংশ বাড়তি থাকবে। ইতোমধ্যে আমরা এগুলো ক্রয়ের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করেছি।  কিছু  কিছু ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনও পেয়েছে। ক্রয় ছাড়াও ভাড়া ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা বন্দর খোলা রাখতে সব বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এনবিআরের সঙ্গে এক হয়ে বন্দর কাজ করবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ প্রতিনিধি, সিএন্ডএফ এজেন্টে সভাপতি, শিপিং এজেন্ট প্রতিনিধি, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি, বাংলাদেশ লিজিং কর্পোরেশনের প্রতিনিধি ও এনবিআরের সদস্যরা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here