মসজিদে বোমা হামলায় সন্ত্রস্ত আমেরিকান মুসলমানেরা

0
254

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি: মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটন সিটিতে ‘দার-আল ফারুক মসজিদ’-এ বোমা হামলার ঘটনায় মুসলিম কম্যুনিটিতে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ আগস্ট শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় বিকট শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হলে এলাকায় সন্ত্রস্ত ভাব ছড়িয়ে পড়ে। তবে মুসল্লীরা যে কক্ষে নামাজ আদায় করছিলেন, সেখানে ঐ বিস্ফোরক ছড়িয়ে না পড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে সিটির পুলিশ প্রধান জেফ পোটস গণমাধ্যমকে জানান। অকুস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে এফবিআই’র স্পেশাল এজেন্ট রিচার্ড থমটন আরো উল্লেখ করেন, ‘হাতে তৈরী বোমা ছিল সেটি। তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি কে এবং কেন করা হয়েছে এই হামলা-তা উদঘাটনে।’  স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ঘটনার ২০ ঘন্টা পরও (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) কেউ গ্রেফতার কিংবা হামলার জন্যে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এফবিআই’র জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্স মাঠে নেমেছে দুর্বৃত্তকে শনাক্ত এবং মোটিভ উদঘাটনে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, ভোর ৫টা ৫ মিনিটে মসজিদের কাচের জানালা ভেদ করে বোমাটি ভেতরে নিক্ষেপ করা হয়। এ প্রসঙ্গে মসজিদ কমিটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ওমর বলেন, ‘এটি ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা। কারণ, বোমা নিক্ষেপের পরই একটি পিকআপ ভ্যানকে দ্রুত মসজিদের পার্কিং এলাকা থেকে চলে যেতে দেখেছেন মুসল্লীরা।’ মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছে। বেশ কিছু কাগজ পুড়ে গেছে।
মসজিদ এলাকা ঘেরাও করে বিভিন্ন বাহিনীর তদন্তের মধ্যেই মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির পরিচালক আসাদ জামান অভিযোগ করেন, ‘ভয়ংকর শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হবার পরই আশপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখাও প্রত্যক্ষ করেন অনেকে। প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েন নিরাপত্তাহীনতায়।’
গত এক বছরে এই এলাকায় মুসলমানদের ওপর ১৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে মোহাম্মদ ওমর জানান, ‘স্থানীয় প্রশাসনও দুর্বৃত্ত দমনে তৎপর রয়েছেন। কিন্তু তবুও থামছে না বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা। মাঝেমধ্যেই আমরা টেলিফোনে হুমকি পাই, ই-মেইলও আসে। সেখানে অশ্লিল ভাষায় বলা হয় এদেশ থেকে চলে যেতে। আমরা নাকি এই সমাজের বোঝা। এবং আমরা আমেরিকার সমাজ-ব্যবস্থার হুমকি বলেও কখনো কখনো উল্লেখ করা হচ্ছে।’
মসজিদের মুসল্লী ইয়াসির আব্দেল রহমান বলেন, ‘ব্লুমিংটন মেট্র এলাকার শিশু-কিশোররাও সাপ্তাহিক ছুটির দিন এই মসজিদে আসে। আরবি শেখে তারা। এমন বোমা হামলার ঘটনায় শিশুদের মসজিদে আসার আগ্রহ কমবে, যা কারো জন্যেই মঙ্গলজনক নয়।’
বিভিন্ন বাহিনীর লোকজন মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ঘেরাও করে তদন্তের সময় যোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয় মসজিদের পাশের মাঠে। নারীরাও একইসাথে নামাজে অংশ নেন।
২০১১ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার আগে ভবনটি ছিল নর্থগেট ইলেমেন্টারি স্কুল এবং কনকর্ডিয়া হাই স্কুলের। বর্তমানে মসজিদের পাশের একটি কক্ষ ব্যবহার করেন এলাকার খ্রিস্টানরা ‘ম্যারানাথা কম্যুনিটি চার্চ’ হিসেবে। অর্থা ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য নজির হিসেবে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। এতদসত্বেও বোমা হামলার ঘটনায় আশপাশের বিভিন্ন ধর্মের লোকজনের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকন্ঠা তৈরী হয়েছে। মিনেসোটা কাউন্সিল অব চার্চের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেভারেন্ড কার্টিস ডিইয়ং বলেছেন, ‘মসজিদে হামলার অর্থ হচ্ছে চার্চে হামলা, সিনগগে হামলা। এর মধ্যদিয়ে সকল ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি হুমকির স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাই এহেন অবস্থাকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।’
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জুইশ কম্যুনিটি রিলেশন্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্টিভ হানেগস বলেন, ‘মুসলমানেরা যেন নিজেদের অসহায় না ভাবেন। আমরাও রয়েছি তাদের পাশে।’
এমন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ইলেইন ডিউক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা চলমান তদন্তের ব্যাপারে সজাগ রয়েছি। এলাকার লোকজনের কাছে আন্তরিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে দুর্বৃত্ত গ্রেফতারের জন্যে।’
এদিকে মুসলিম আমেরিকাস সোসাইটির পক্ষ্য থেকেও ১০ হাজার ডলার ঘোষণা করা হয়েছে দুর্বৃত্ত সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদানকারীর জন্যে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here