ইমরুলের এবার করে দেখানোর পালা

0
9

ক্রীড়াপ্রতিবেদক : সবশেষ আট টেস্ট ইনিংসে ইমরুল কায়েসের সর্বোচ্চ রান ৩৬, সর্বনিম্ন শূন্য; এটাও আছে দুটি। নিউজিল্যান্ড সফরে মোটামুটি মান রাখলেও শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ইমরুলের পারফরম্যান্স তলানিতে। পারফরম্যান্সের সূচক এখন নিম্নমুখী।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা ও চট্টগ্রাম টেস্টে তার ইনিংসগুলো ছিল এরকম ০, ২, ৪, ১৫। এমন পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশের আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে টিকে গেছেন ইমরুল।
তাকে দলে নেওয়ার পেছনে প্রধান নির্বাচকের যুক্তি, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফর খুব চ্যালেঞ্জিং। আমরা এমন কোনো নতুন ক্রিকেটারকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিতে চাইনি যেটা তার ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি হয়ে যায়। এজন্য অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। এই সিরিজে আমরা ওকে (ইমরুল) দেখব। যেহেতু ও যথেষ্ট অভিজ্ঞ। বাউন্সি উইকেটে স্কয়ার অব দ্য উইকেটে যথেষ্ট ভালো ব্যাট করে।’ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কথায় স্পষ্ট, ইমরুল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ‘শেষ’ সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। এ সফরে ভালো কিছু করলে জাতীয় দলে টিকে যাবেন। অন্যথায় জায়গা হারাতে হতে পারে দীর্ঘদিনের জন্য। এক প্রকার অগ্নি পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে ইমরুল। এমন চাপ নিয়ে কি পারফর্ম করা যায়? জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমরুলের কাছে। জাতীয় দলের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সহজ স্বীকারোক্তি, ‘আমি যেভাবে খেলছি এভাবে খেলা অবশ্যই একটু কঠিন। আমি নিজেও জানি একটা সিরিজ খারাপ খেললে আমার জন্য পরের সিরিজে প্রেসার।’ নয় বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এমন চ্যালেঞ্জের মুখে বহুবারই পড়েছেন ইমরুল। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কখনো সফল হয়েছেন, কখনো ব্যর্থ। বরাবরের মতো এবারও ভালো খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইমরুলের ক্যারিয়ার শুরু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে ছিলেন তিনি। ওপেনিংয়ে নেমে চার ইনিংসে করেছিলেন ২৫ রান। বড় রান না করলেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন প্রশংসা।
‘ওই সফরের স্মৃতি তেমন মনে নেই। ওই সিরিজে আমার অভিষেক হয়েছিল। আমি খুব সাহসের সঙ্গে ব্যাটিং করেছিলাম। সিনিয়ার ক্রিকেটাররা যারা ছিলেন তারা সবাই বলেছিলেন,‘‘ব্যাটসম্যান হিসেবে যে জিনিসটা দরকার সেই জিনিসটা তোমার মধ্যে আছে। অসুবিধা নেই। তুমি সামনে আরো ভালো করতে পারবা। তুমি এই সাহসটা রেখো।“ এগুলোই মনে আছে’–বলেছেন ইমরুল।
তরুণ হয়েও ইমরুল সাহস দেখিয়েছিলেন নয় বছর আগে। এখন ইমরুল অনেক পরিণত, অনেক সাহসী। চিতার মতো ক্ষিপ্র গতিতে ইমরুলের ব্যাট চলবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। নির্বাচকরা তাকে দিয়েছেন আস্থা। কোচ স্নেহের চাদরে ?মুড়িয়ে রেখেছেন। ইমরুলের এবার কিছু করে দেখানোর পালা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here