admoc
Kal lo

,

admoc
Notice :
«» সোনারগাঁওয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. মাহমুদা আক্তার «» অর্থের অভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না বাউফল পৌরসভার একাধিক প্রকল্প «» ধামরাইয়ে কালামপুর বাজার বণিক সমিতির ফুটবল খেলা টাইব্রেকারে জয় বাংলা একাদশ «» বিএনপিকে পরাজিত করে বিজয়ী হব : কাদের «» আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত বলছে পৃথিবী সম্পূর্ণ উল্টোপথে হাটছে পৃথিবীতে রাত হারিয়ে যেতে বসেছে «» প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষার প্রশ্নে ভুল দায় কার-দায়ী কে? «» বারী সিদ্দিকী আর নেই «» রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার পরিস্থিতি এখনও হয়নি : জাতিসংঘ «» জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ «» গাজীপুরে রেল ক্রসিংয়ে ট্রাক সংঘর্ষ ট্রেনের সহকারী চালক নিহত

মুকুটহীন সম্রাটের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী

Untitled-5

বিনোদন প্রতিবেদক  : বাস্তবে তিনি নবাব নন। তবুও আমরা বলি নবাব। অভিনয়ের সুবাদে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে চিরদিন নবাব হয়েই বেঁচে থাকবেন। এই নবাবের নাম আনোয়ার হোসেন।তাকে বলা হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাট। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি এই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। যা তাকে জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত সম্মানিত করেছে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এই মুকুটহীন সম্রাটের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামে। ১৯৫১ সালে তিনি জামালপুর স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। স্কুল জীবনে আসকার ইবনে শাইখের ‘পদক্ষেপ’ নাটকে প্রথম অভিনয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকায় আসেন। প্রথম চলচ্চিত্র ১৯৫৮ সালে চিত্রায়িত ‘তোমার আমার’। পরিচালক ছিলেন মহিউদ্দিন। পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সারাজীবন অভিনয়ে জড়িয়ে থাকবেন। মৃত্যু অবধি সেই সিদ্ধান্তেই তিনি অটল ছিলেন । প্রথম দিকে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরবর্তীতে তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয়ের কারণে তিনি মুকুটহীন সম্রাট উপাধি পান।
তার অভিনয় জীবন ৫২ বছরের। আনোয়ার হোসেন প্রায় পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে প্রাণবন্ত ও বলিষ্ঠ অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।  ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সহ-অভিনেতার পুরস্কার পান ১৯৭৮ সালে। পরবর্তীতে ২০১০ সালে চলচ্চিত্রে সামগ্রিক অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আজীবন সম্মাননা লাভ করেন । এ ছাড়াও কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাচসাস, পাকিস্তানের নিগারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন গুণী এ অভিনয়শিল্পী।  চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানে ১৯৮৫ সালে একুশে পদকও পান তিনি।
আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাসিমা খানম। এই দম্পতির চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে থাকেন সুইডেনে। অন্য তিন ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ঢাকার চলচ্চিত্রের এই প্রাণ-পুরুষ ৫২ বছরের অভিনয় জীবনে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এমন সময়ও ছিল যখন আনোয়ার হোসেন ছাড়া ছবি-ই ছিল না। আনোয়ার হোসেন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘ভাত দে’, ‘জোয়ার এলো’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘নতুন দিগন্ত’, ‘নাচঘর’, ‘ধারাপাত’, ‘গোলাপী এখনো ট্রেনে’, ‘রাজা এলো শহরে’, ‘বন্ধন’, ‘গোধূলীর প্রেম’, ‘রাজা সন্ন্যাসী’, ‘রূপবান’, ‘জরিনা সুন্দরী’, ‘পরশমনি’, ‘জংলী ফুল’, ‘রাখাল বন্ধু’, ‘জুলেখা’, ‘শহীদ তীতুমীর’, ‘বাঁশরী’, ‘সপ্তডিঙ্গা’, ‘গাজী কালু চম্পাবতী’, ‘স্বর্ণকমল’, ‘আনোয়ারা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘স্বরলিপি’, ‘বাহরাম বাদশা’, ‘লালন ফকির’, ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘বাঘা বাঙালী’, ‘রংবাজ’, ‘দয়াল মুরশিদ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ঈশা খাঁ’, ‘কার হাসি কে হাসে’, ‘লাঠিয়াল’, ‘দেবদাস’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘দায়ী কে’, ‘লালুভুলু’, ‘পেনশন’, ‘শিরি ফরহাদ’, ‘ত্যাজ্যপুত্র’ ইত্যাদি।
এই মুকুটহীন সম্রাট আজো চলচ্চিত্র জগতে সবার শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত।
তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থে মনেপ্রাণে একজন শিল্পী। বাংলাদেশের চলচিত্রের ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণোজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

Share Button
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী