admoc
Kal lo

,

admoc
Notice :

ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়েই শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

et2rszj4

আজ মহাসপ্তমী
তাপস রায়: গতকাল ছিল মহাষষ্ঠী। মূলত ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়েই শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল থেকে দেশের সবগুলো পূজাম-প মুখরিত হলো চ-ীপাঠ, ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি ও নানাবিধ আনন্দ অনুষঙ্গে। ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় দেবীর বোধন সম্পন্ন হয়েছে। মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল দেবীর আবাহন।গতকাল মহাষষ্ঠীতে দেবী কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে এলেন। ষষ্ঠীপূজার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ষষ্ঠী হলো চান্দ্র মাসের ষষ্ঠ দিন। সে অনুযায়ী প্রতি মাসেই ষষ্ঠী আসে বিভিন্ন তাৎপর্য নিয়ে। যেমন নীলষষ্ঠী, জামাইষষ্ঠী, দুর্গাষষ্ঠী। দুর্গাষষ্ঠীতে বংশধরদের কল্যাণ কামনা করা হয়। মায়েরা দুর্গাপূজা শুরুর এই দিনে সন্তানদের মঙ্গল কামনা করে দেবীকে অঞ্জলি দেন।
জগতের কল্যাণ কামনায় এবার দেবী দুর্গা আসছেন নৌকায়। শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে তিনি মর্ত্যলোকে আসছেন বাপের বাড়ি বেড়াতে। সঙ্গে আসছেন জ্ঞানের প্রতীক দেবী সরস্বতী; ধন, ঐশ্বর্যের প্রতীক দেবী লক্ষ্মী, সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং বলবীর্য ও পৌরুষের প্রতীক কার্তিক। এঁরা মায়ের চার সন্তান। দেবী মেনকার তাই ফুরসত ফেলার সময় নেই। বছর বাদে মেয়ে আসছেন বাপের বাড়ি, মেয়েকে বরণ করতে তাই তাঁর এত আয়োজন। ওদিকে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে ভক্তরাও সমানভাবে উদগ্রীব। তাদের আয়োজনও কম নয়।
কবি কৃত্তিবাস পনেরো শতকের মাঝামাঝি তদানীন্তন গৌরেশ্বর রাজা গণেশের অনুরোধে বাংলা-রামায়ণ রচনা করেন। সেখানে শ্রীরামচন্দ্র কর্তৃক দুর্গাপূজার কথা উল্লেখ রয়েছে। পিতা দশরথের কথা রক্ষায় শ্রীরামচন্দ্র স্ত্রী সীতা এবং অনুগত ছোট ভাই লক্ষ্মণকে নিয়ে বনবাসের উদ্দেশে পঞ্চবটী বনে এলে রাবণ সীতাকে হরণ করে অশোক বনে আটকে রাখে। শ্রীরামচন্দ্র স্বয়ং অবতার হয়েও রাবণকে বধ করে সীতা উদ্ধারে দেবী দুর্গার পূজা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব আয়োজন সম্পন্ন করে পূজা করতে বসে রামচন্দ্র অঞ্জলি দেওয়ার সময় ১০৮টি নীলপদ্মের জায়গায় ১০৭টি নীলপদ্ম পান। অথচ ওই একটি নীলপদ্ম না হলে যে পূজা সম্পূর্ণ হবে না! এখন উপায়? তখন রামচন্দ্র ধনুর্বাণ দিয়ে নিজের চোখ উৎপাটনে উদ্যত হন। যাতে হারিয়ে যাওয়া সেই একটি নীলপদ্মের বদলে চোখ দিয়ে মায়ের পূজায় অঞ্জলি দেওয়া যায়। কারণ রামের আরেক নাম ছিল পদ্মলোচন। রামচন্দ্রের ভক্তি দেখে দেবী দুর্গা অভিভূত হন। তিনি তখন সহাস্যে স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে রামচন্দ্রকে চোখ উৎপাটনে বাধা দিয়ে সেই নীলপদ্মটি ফিরিয়ে দেন। কেননা ভক্তের ভক্তি পরীক্ষা করতে ওই নীলপদ্মটি ছলনা করে মা নিজেই লুকিয়ে রেখেছিলেন। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে রামচন্দ্র পরবর্তী সময়ে রাবণকে পরাজিত করে সীতাকে উদ্ধার করেন। এর পর থেকেই শরৎকালে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। আদিতে বসন্তকালে দুর্গাপূজা হতো।
পুরাণ অনুসারে সত্য যুগে রাজা সুরথ রাজ্যচ্যুত হয়ে বনে আশ্রয় নেন। এই মহাসংকট থেকে উদ্ধার পেতে সত্যদ্রষ্টা মেধস মুনি রাজা সুরথকে দুর্গাপূজার পরামর্শ দেন। তখন তিনি ভক্তি সহকারে দুর্গাপূজার উদ্যোগ নেন। এ পূজা বসন্তে হয় বলে একে বাসন্তী পূজা বলা হয়। পূজা যে সময়ই হোক না কেন উদ্দেশ্য এক। সনাতন ধর্মের প্রাচীন আর্য ঋষিরা সর্বশক্তিমান পরমেশ্বরের প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার প্রসন্নতা ও আশীর্বাদ লাভের জন্য আরাধনা করতেন। এ যুগেও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা হৃদয়ের অর্ঘ্য সাজিয়ে আনন্দময়ী দুর্গার অর্চনা করেন। কারণ তিনি সর্বশক্তির আধার। মাতৃরূপে তিনি সর্বজীবে বিরাজ করে জীবের দুর্গতি নাশ করেন বলেই তাঁর নাম দুর্গা। শত্রু নাশে এ কারণেই তাঁর ১০ হাতে ৯ অথবা ১০ রকম অস্ত্র শোভা পায়। ডান হাতে ত্রিশূল, খড়গ ও চক্র। বাম হাতে শঙ্খ, ঢাল, কুঠার, ঘণ্টা। এর প্রতীকী তাৎপর্য আছে বৈকি! সত্য প্রতিষ্ঠা, ভক্তের দুর্দশা লাঘবে শত্রুকে তিনি ছাড় দিতে রাজি নন। সব শক্তি একত্রিত করে তিনি সমূলে শত্রু নাশ করতে চান। দুর্গাপূজা এক অর্থে তাই মহাশক্তির প্রতীকী রূপও বটে। পৃথিবীতে অন্যায়-অত্যাচারী, পাপিষ্ঠদের রুখে দিয়ে শোষকের হাত থেকে শোষিতদের উদ্ধার করতে, সত্যকে স্বরূপে প্রতিষ্ঠা করতে এই মহাশক্তির আরাধনা বড় বেশি প্রয়োজন। এবারের দুর্গোৎসব আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি ম-পের নিরাপত্তায় বিশেষভাবে নিয়োজিত রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর বাইরেও প্রতিটি ম-পে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। দেশের ঐতিহ্যম-িত পূজা ম-পগুলোয় পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছা রক্তদান, বস্ত্র প্রদান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব শেষ হবে। সেদিন দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে যাবেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী দেবী এবার বিদায় নেবেন ঘোড়ায় চড়ে। উল্লেখ্য এবার দেশব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

Share Button
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী