admoc
Kal lo

,

admoc
Notice :

রোহিঙ্গাদের জন্য ৪০ কোটি ডলার দিবে বিশ্বব্যাংক

Lid-2

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ চাইলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৪০ কোটি ডলার দিতে প্রস্তুত রয়েছে । গতকাল দুপুরে শেরে বাংলা নগরে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান একথা জানান।  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট নামে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিশ্বব্যাংক কোনো সহায়তা দেবে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে চিমিয়াও ফান বলেন, বাংলাদেশ চাইলে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেবে। এক্ষেত্রে ৪০ কোটি ডলার অর্থাৎ ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা পেতে পারে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের আইডিআই-১৮ প্যাকেজের আওতায় ২০০ কোটি ডলার তহবিল রয়েছে। যে দেশে শরণার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি তারা চাইলে এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার সহায়তা পেতে পারে। বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারের অনেক বেশি। ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে পারে।
এ সহায়তা ঋণ নাকি অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নির্ভর করে শরণার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ প্রস্তাবনার ওপর। প্রস্তাবনা দেখে মোট সহায়তার অর্ধেক অনুদান ও অর্ধেক ঋণ হতে পারে, আবার পুরোটাও অনুদান হতে পারে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বব্যাংক মিয়ানমারের ওপর চাপ দেবে কিনা জানতে চাইলে কিমিয়াও ফান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকও বিষয়টি মনিটর করছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট নামে প্রতিবেদন পাঠ করেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন ব্যাংকের যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহরিন এ. মাহবুব। এবারের প্রতিবেদনের বিষয় ছিল বাংলাদেশের কর্মসংস্থান।
এতে বলা হয়, বিশ্ব ব্যাংক চলতি অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করলেও শেষ পর্যন্ত তা ৬ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি হবে না বলেই মনে করছে । আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থার প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’- এ গতকাল এই পূর্বাভাস তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেলেও তা হবে ভালো প্রবৃদ্ধি। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “প্রবৃদ্ধির এই প্রাক্কলন একমাত্র ভারত ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে এটা খুবই ভালো প্রবৃদ্ধি।
ভারতে এবার ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন দেওয়া হয়েছিল, সেটাও হয়ত থাকবে না। চলতি অর্থবছর চীন ৬ দশমিক ৩, ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ৩, থাইল্যান্ড ৩ দশমিক ৩, পাকিস্তান ৫ দশমিক ৫ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে। প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। এরপর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরে এগিয়ে বাংলাদেশ অর্জন করে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলে আসছেন, প্রবৃদ্ধির হার আর কখনও ৭ শতাংশের নিচে নামবে না বলেই তার বিশ্বাস।
বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে জাহিদ হোসেন বলেন, “রপ্তানি খাত এখন ভালো করছে। গত অর্থবছরে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এবার প্রথম দুই মাসের যে তথ্য পাওয়া গেছে তা ভালোর দিকেই যাবে বলে মনে হচ্ছে।”২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানিতে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেলেও চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ সরকার। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিটেন্স প্রবাহে গত অর্থবছর বড় ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। রেমিটেন্স কমেছিল ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এবার তা ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক।  জাহিদ হোসেন বলেন, “জনশক্তি রপ্তানি এবার বেশ বেড়েছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি লক্ষণ দেখা দিয়েছে, কারণ ব্যাংক ঋণের সুদের হার কিছুটা কমেছে।” এছাড়া সেবা ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণেই বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

Share Button
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী