দেশে ফিরেই কৌশলী ভূমিকা নেবেন খালেদা

0
176

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলা ভীতিতে রয়েছেন। এক মাসের মধ্যে দেশে ফিরে আসার কথা বলে ১ জুলাই তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন। দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হচ্ছে আরেক দফা অপারেশনের জন্য।
বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানান চিকিৎসকের সম্মতি সাপেক্ষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ অক্টোবর তাঁর চোখের অপারেশনের তারিখ স্থির করা হয়েছে। অপারেশন শেষে ২১ অক্টোবর দেশে ফেরার জন্য টিকিট বুকিংও দেয়া হয়েছে। চোখের ও হাঁটুর ব্যথার চিসিৎসার জন্য তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন। সেখানে পুত্র, পুত্রবধু, নাতিদের সাথে কিছু দিন সুখ-শান্তিতে কাটিয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের সাথে নির্বাচন, আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সম্পর্ক দলীয় ও জোটগত প্রার্থিতা, ভবিষ্যত নেতৃত্ব, আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ৫শ জনের প্রার্থী তালিকা সঙ্গে নিয়ে যান খালেদা জিয়া। জানা যায়, মা-পুত্র আলোচনায় এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনায় সেই তালিকা ৪শ জনে আনা হয়েছে। ঢাকায় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মনোনয়ন বোর্ডের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ৩শ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এলাকায় জনপ্রিয়, যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে জয়লাভের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেবেন খালেদা জিয়া। তার আগে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িংফিল্ড নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের পূর্বশর্ত দেবেন খালেদা জিয়া। দেশে ফেরার পর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছে যাবেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে সহায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরতে সময় নিতে পারেন। কি থাকতে পারে খালেদা জিয়ার সহায়ক সরকারের রূপরেখায় তা নিয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতারাও দ্বিধায় রয়েছেন।
জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর সহায়ক সরকারের যে রূপরেখা দেবেন তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছুটিতে যাওয়ার এবং দলের অন্য একজনকে নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার প্রধান করার কথা বলবেন। প্রতিনিধিত্বশীল বলতে বর্তমান সরকার এবং বিগত সংসদে প্রতিনিধিত্বকারি বিএনপিকে বুঝানো হবে। বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে প্রধান দুই দলের মনোনীত দেশের বরেণ্য, বিতর্কের ঊর্ধ্বে দল নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অন্তবর্তী সরকার গঠনের কথা বলা হবে। তিনি সংসদ ভেঙে দেয়া এবং তার আগে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থায় উপনীত হতে সাংবিধানিক সংশোধনীর দাবি করবেন। তিনি নির্বাচনে সেনা বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া, নির্বাচন কমিশনের অধীনে অথবা তাদের  প্রস্তাবিত অন্তবর্তী সহায়ক সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অর্পনের দাবি করেন। বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসমূহ প্রত্যাহারের কথা বলবেন। শর্ত সাপেক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দেবেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রীকে সরে যাওয়া ও সেনা বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার মত কঠিন দাবি করলেও তা সরকারের সাথে আলোচনা ও সমঝোতার কৌশল হিসেবে দেয়া হয় কিনা তাও পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষ।
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চলমান দুই মামলা রায়ের পর্যায়ে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই মামলার রায় হয়ে যাবে। এই মামলার ব্যাপারে সরকারের মনোভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলার রায়ও কাছাকাছি সময়ে হয়ে যাবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে বিচার বিভাগের সাথে সরকারের যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সামনে তা থাকবে না। খালেদা জিয়া নিম্ন আদালত, ট্রাইব্যুনালে দন্ডিত হলে যদি আপিলে জামিন পান এবং নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেনও তারেক রহমানের ক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই। নিজের ও তারেক রহমানের মামলার সম্ভাব্য রায় ও এর রাজনৈতিক পরিনতি নিয়েই বিচলিত খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ। খালেদা জিয়া দৃশ্যত কঠোর শর্ত দিলেও সরকারের সাথে একটা আপোষরফার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিএনপির নেতারা। দেশি-বিদেশি প্রভাবশালী মাধ্যমে নেপথ্য কথাবার্তাও শুরু হয়েছে। আভাষ পাওয়া যায় বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে নমনীয়তা কিছুটা থাকলেও তারেক রহমানের বেলায় তা একেবারেই নেই। পুত্রের ব্যাপারে ছাড় না পেলে খালেদা জিয়া কঠোর মনোভাবে অটল থাকবেন কিনা তাও স্পষ্ট নয়। দলের অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাদের অনেকেই জামিনে রয়েছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, কিছু সংখ্যক নেতার ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নমনীয়। এদের কারো কারো সাথে  সরকারের যোগাযোগও রয়েছে। নির্দিষ্ট সংখ্যক নেতার মুক্তির আইনগত ব্যবস্থা করে অন্যদের আটকে রাখা, মামলা চলমান রাখবে সরকার।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here