বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী ফরিদের স্বাবলম্বী

0
11

বাউফল প্রতিনিধি: একজন প্রতিবন্ধীকে আতœনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান দৃষ্টান্তর হয়ে উঠেছে সর্বমহলে। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ফরিদ মৃধার মানবেতর জীবনযাপনের কাহিনী জানতে পেরে এ আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
পটুয়াখালীর বাউফলে কায়না গ্রামের মৃত মজিদ মৃধার ছেলে ফরিদ মিয়া। জন্ম হয়েছিল স্বাভাবিক ছেলের মতই। কিন্তু ছোট বেলায় জ্বরের কবলে পড়ে পা দুটো তার পঙ্গু হয়ে যাওয়া নিগ্রহের জীবন শুরু। তিন ভাই থাকলেও সবাই যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। বৃদ্ধ অসুস্থ মাকে নিয়ে ফরিদের সংসার। দুটি পা অচল থাকলেও ভিক্ষাবৃত্তি না নিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। সারাদিন ইট ভেঙে যা আয় হয় তা দিয়ে মা-বেটা একবেলা/ দুবেলা খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে। যেদিন ইট ভাঙার কাজ থাকে না, সেদিন উপবাস থাকতে হয়। তবুও অদম্য ফরিদ কারো কাছে হাত পাতেনি। মায়ের খেদমত করতে গিয়ে নিজে বিয়েও করেনি ফরিদ। পৈত্রিক জায়গা জমি না থাকায় জীবন ধারনের জন্য ইট ভাঙ্গার মত কঠোর পরিশ্রমের কাজ করছে। প্রতিদিন সকাল ইট ভাঙ্গার কাজে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িয়ে পরেন। সন্ধার পরে বাড়িতে ফিরে খালের উপর মাচানে বসে জাল দিয়ে মাছ ধরেন। র্দীঘদিন যাবত এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করে ফরিদ। বিভিন্ন ত্রান সহায়তার মধ্যে শুধু প্রতিবন্ধি ভাতা পাচ্ছেন। নামে মাত্র ৫শ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করলে তা নিয়মিত সময় দেওয়া হচ্ছে না।
জনৈক ফেসবুক বন্ধু হুমায়ুন কবির এর একটি স্ট্যাটাস থেকে বিষয়টি জানতে পেরে ফরিদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নেয় বাউফল উপজেলা প্রশাসন। গতকাল ফরিদকে অফিসে ডেকে তাঁর হাতে তুলে দেয় নগদ ১০ হাজার ৪ শত টাকা ও ত্রান তহবিল থেকে ১ বান্ডেল টিন। ফরিদের বাড়ির পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটে একটি মুদি/চা-স্টল তোলা হবে এই টিন ও ত্রানের টাকা দিয়ে।
উপজেলা প্রশাসনের সাহায্যে হাঁসি ফুটেছে ফরিদ মৃধার মুখে। ফরিদ মিয়া বলেন, ইউ,এন,ও স্যারের সাহায্য পেয়ে আমি খুবই খুশি। এই টাকা দিয়ে আমি একটি দোকান দিতে চাই। এখন বসে বসে কাজ করতে পারবো। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেখে ফরিদের পাশে দাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here