বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

0
15

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিসেম্বরের শুরুতেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতীয় যৌথ বাহিনীর আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় পাকিস্তানিদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য একটি ভিন্ন কৌশল নেয়া হয়। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সেনা, নৌ ও বিমান আক্রমণের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল এস এইচ এফ মানেকশ’ যুদ্ধে শত্রুর মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য ‘মনসতাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শুরু করেন। তিনি বেতারে পাকিস্তান বাহিনীকে আত্মসর্মপণের জন্য নির্দেশ দিতে থাকেন। বেতার ভাষণে তিনি পাকবাহিনীর নাজুক অবস্থা তুলে ধরে বলেন যে, তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। অতএব, আত্মসর্মপণ ছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর নেই।
মানেকশ’র এই কৌশল পরবর্তী সময়ে পাকবাহিনীর মনোবল ভাঙ্গতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল বলে অনেকে বলেছেন। এসময় চাঁদপুর মিত্রবাহিনীর দখলে চলে যাওয়ার পর্যায় এলে নিয়াজীর মনোবল ভেঙ্গে যায় এবং যুদ্ধে তিনি পরাজিত হবেন বলে প্রায় নিশ্চিত হন।
এ ব্যাপরে নিয়াজী তার ‘দ্য বিট্রেয়ার অব ইস্ট পাকিস্তান ’ বইতে লিখেছেন- ‘বিরুদ্ধ প্রপাগান্ডা এবং ইয়াহিয়া সরকারের ত্রুটিপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির কারণে পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।’ সম্ভবত এরপর থেকেই পাকবাহিনী মিত্রবাহিনীর কাছে আতœসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি এবং সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) এ কে এম শফিউল্লা বীর উত্তম বলেন, জেনারেল এস এইচ এফ মানেকশ’র এই মনসতাত্ত্বিক যুদ্ধ ঘোষণায় যুদ্ধে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। এতে পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে যেতে থাকে। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধারা উজ্জীবিত হন।আত্মসমর্পণের জন্য তিনদিন সময় বেঁধে দেয়ার পর ঘোষণায় বার বার বলা হয়Ñ ‘এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে মৃত্যু অনিবার্য। হয় সারেন্ডার- না হয় মৃত্যু’- এ রকমই ছিল ঘোষনা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here