admoc
Kal lo

,

admoc
Notice :

জামায়াত ৭৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী দেবে

ude5wun1

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবেই আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করছে। বিএনপির সাথে সমঝোতায় নির্বাচন করলেও তাদের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার প্রশ্নে দলের মধ্যে থেকেই আপত্তি উঠেছে। বিএনপির সূত্রে জানা যায়, কৌশলগত কারণে জামায়াতের সাথে কোনরকম নির্বাচনী সমঝোতায় আসার ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে বিএনপি হাইকমান্ড নতুন করে ভাবছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়ই জামায়াতের নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট আছে। যা ফলাফল নির্ধারনে নিয়ামক নাহলেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখে থাকে। ভোটের এই স্বার্থ ছাড়াও বিশেষ কিছু কারণও রয়েছে জামায়াতের প্রতি বিএনপির দুর্বলতার। বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপি এখন সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠেছে। দলের মধ্য থেকেও আপত্তি প্রবলতর হচ্ছে। বিএনপির মাঠের নেতা-কর্মীদের বৃহত্তর অংশ জামায়াতকে সঙ্গী করে নির্বাচন করার পক্ষে নন। তাদের মতে  নির্বাচনী এলাকায় নিদিষ্টিসংখ্যক কর্মী ছাড়া জামায়াতের সমর্থকের সংখ্যা সপ্তম বা অস্টম সংসদ নির্বাচনের অবস্থায় নেই। ধর্মপ্রাণ ও ধর্মানুরাগী মানুষদের জামায়াতের প্রতি দুর্বলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচারমূলক কাজ, জনসমাবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলেই বিএনপির মাঠের নেতাদের ধারণা। অবরোধের সময় হামলা ধংসযজ্ঞ, হত্যাযজ্ঞের জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসমূহসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও জামায়াতের প্রতি তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা এর প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। এতে লাভের চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষতির মাত্রাই বেশি হবে। জামায়াতের মনোনীত ব্যক্তিরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও তারা মূলত জামায়াতেই থাকবেন। জামায়াত বিএনপির কাছে ২৭টি আসনে মনোনয়ন চেয়েছে। জামায়াতকে সাতটি আসনে ছাড় দেয়ার কথা দলটির নেতৃত্বকে জানান হয়েছে। এরা ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন। জামায়াত এতে সন্তষ্ট নয়। তারা কমপক্ষে এগারটি আসনে তাদের প্রার্থী চাচ্ছে। অপরদিকে বিএনপির নেতৃত্বের বড় অংশই মনে করে জামায়াতকে এইসব আসনে ছাড় দেয়া হলে তাতে ক্ষতি হবে বিএনপিরই। দীর্ঘমেয়াদে আসনগুলো তাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং জাতীয় আঞ্চলিকভাবে বিএনপিকে অনেক বড় ক্ষতির বোঝা বইতে হবে।
এদিকে জামায়াত সূত্রে জানা যায়, বিএনপিতে তীব্র জামায়াত বিরোধী মনোভাবের প্রেক্ষিতে দলটি সম্ভাব্য প্রার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও বিএনপির সাথে প্রকাশ্যে,অপ্রকাশ্যে নির্বাচনী সমঝোতা বা জোটবদ্ধ নির্বাচনে আগ্রহী নন। তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার পক্ষে। জামায়াত সারাদেশে ৭৩টি আসনে প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। দলের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের নেতারা গোপনে নিয়মিত বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কৌশল স্থির করছেন। দৃশ্যমানভাবে অধিকাংশ এলাকায়ই তারা সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ ও সখ্যতা বজায় রেখেই চলছেন, যা তাদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করছে।  বিএনপির মধ্যে এরকম সন্দেহ-সংশয় ঘনিভূত হয়েছে যে, সরকারের সাথে গোপন সমঝোতায় এসেই তারা দলের প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করানোর কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার অব্যাহতভাবে গ্রেফতার, নির্যাতন চালালেও জামায়াতের নেতৃত্বের একটি অংশের সঙ্গে সরকারের গভীর সমঝোতা রয়েছে। এর পেছনে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দলও ভূমিকা রাখছে।

Share Button
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী